আপডেট: ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯

আপডেট:

টিপু সুলতান :তীব্র শীত ও ঘণ কুয়াশায় ভোলা জেলার পানচাষী এবং ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পরেছে। অধিক শীতে পান পাতায় দাগ, শিকড় পচা ও পাতা ঝড়াসহ পান বরজে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে। ফলে পানের বাজারে ধ্বস নেমেছে। কমেছে দাম। গত এক সপ্তাহে পানচাষী এবং এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পরেছেন বলে জানান মোকাম মালিকরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার অধিকাংশ লোক পান চাষ করে জীবিকা নিবাহ করছেন। সূত্রমতে, গত এক সপ্তাহ থেকে অধিক শীতের কারণে পানের পাতায় হলদে দাগ দেখা দিয়েছে। পচে যাচ্ছে পান পাতা। এক পোয়া (৩২ বিড়াই এক পোয়া এবং ৬৪ পানে এক বিড়া) বড় পানের দাম তিন হাজার থেকে নেমে বারোশ’ টাকা, মধ্যম পান প্রতি পোয়া এক হাজার ছয়শ’ থেকে নেমে আটশ’ এবং ছোট পান প্রতি পোয়া পাঁচশ’ থেকে নেমে তিনশ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন মোকামে কম দামে পান ক্রয় করেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তারা বলছেন, পানের পাতায় কালো দাগ থাকায় এবং পচে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থানের মোকামে আরও কম দামে পান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। পান পরিবহন এবং বিক্রিতে দুইদিন সময় লাগে। আর এ সময়ের মধ্যে পান পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন বাজারে কম দামে পান বিক্রি করছেন।মোকাম মাালিক তপন চন্দ্র সুুুজন জানান, গত সোমবার ১৫ লাখ টাকার পান ক্রয় করে ঢাকা, ফেনীসহ বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করা হয়েছে। তীব্র শীত ও ঘণ কুয়াশায় পানের পাতার ওপর কালো দাগ পরে পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহকৃত পান নামে মাত্র টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। একইভাবে জানিয়েছেন, পান ব্যবসায়ী রুবেল খান, মিলাত তালুকদার ও স্বপন গাজী। চরপাতা গ্রামের পান চাষী আলমগীর কাজী, শ্যামপুর গ্রামের আলাম মাঝি, স্বপন মাঝি ও আলম হাওলাদার বলেন, তীব্র শীত ও ঘণ কুয়াশার কারণে পানের পাতা লালচে হয়ে ঝড়ে পরছে। পান বরজ থেকে ঝড়ে পরা পান সংগ্রহ করতে গেলে অন্য পানও ঝড়ে যায়। এসব পান বাজারজাত করার জন্য গাদি করার সময় দেখা যাচ্ছে পাতায় কালো দাগ। আবার পচা পাতাও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পানের বাজারে ধ্বস নেমেছে। তারা আরও বলেন, একবিঘা বরজ করতে খরচ হয় ছয় লাখ টাকা। এবার লাভতো দূরের কথা, উৎপাদন ব্যয়ও উঠবেনা। উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ূন আহমেদ বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে চাষীদের সর্বাত্মক সহযোগীতা করা হচ্ছে। তাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পানবরজে বর্তমানে যেসব রোগবালাইয়ে সক্রমিত হয়েছে সে ব্যাপারে আমাদের মাঠকর্মীরা প্রতিনিয়ত চাষীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। অতিরিক্ত শীতের কারণে এ ধরনের রোগবালাই হচ্ছে। আমরা আশা করছি, পানবরজের পরিচর্যা করলে এবং শীত কমে গেলে এক সপ্তাহের মধ্যে এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।