২০, আগস্ট, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১ মুহররম ১৪৪২

প্লাস্টিক বর্জ্যে বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ, নদ-নদী ও বনাঞ্চল

আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০২০

  • Facebook Share
প্লাস্টিক বর্জ্যে বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ, নদ-নদী ও বনাঞ্চল

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি ঃ সম্প্রতি প্লাষ্টিক বর্জ্য ভেসে আসার ফলে সমাজ, পরিবেশ ও মানুষের ব্যাপক, ধংসাত্মক ক্ষতির দিকগুলো তুলে সামাজাকি-যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। ভিডিওটি বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা পাথওয়ের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহিন। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

ভাইরাল হওয়া ঐ ভিডিওতে শাহিন উল্লেখ করেন, কলাপাড়ার রাবনা নদীর চরটিতে অসংখ্য প্লাষ্টিক বর্জ্য তীরে ভেসে এসে মাটির সাথে মিসে যাচ্ছে। ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। জেলে এবং পার্শ্ববর্তী বসবাসকারী যারা রয়েছেন তারা এসব পানির বোতলসহ জেলেদের বিভিন্ন সরঞ্জাম পানিতে ফেলছেন। ফলে পরিবেশ মারাত্মক ভাবে নষ্ট হচ্ছে। এতে দেশ ও আগামী প্রজন্মকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য তিনি আরো বলেন, প্রাকৃতিভাবে জন্মানো এই বনাঞ্চল সবুজ দেয়াল বিভিন্ন জলোচ্ছাস ও দূর্যোগের সময় বটবৃক্ষের মতো ছায়া হয়ে এ উপক‚লকে রক্ষা করে। তিনি নদীর তীরে বনাঞ্চল মধ্যে ছরিয়ে ছিটিয়ে থাকা ওইসব প্লাস্টিক বর্জ্যগুলো কুড়িয়ে আগুন দিয়ে ধংস করে দেন। তিনি জেলে সহ সাধারন মানুষকে সচেতন করতে এ ভিডিওটি আপলোড করেছেন বলে জানিয়েছেন।

বিভিন্ন পরিবেশবিদদের বিষেøষনে দেখা যায়, মানুষ প্রয়োজনে,অপ্রয়োজনে কিংবা অসচেতনতার কারনে ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলছেন নদ-নদী ও সাগরে। সেই প্লাস্টিক বর্জ্য জোয়ার ভাটার সঙ্গে ভেসে আটকে যাচ্ছে নদ-নদী এবং সমুদ্র তীরে। যার ফলে পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন নদীর তীরে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো সবুজ দেয়াল খ্যাত ম্যানগ্রোফ বন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পরিবেশবিদরা আরো বলেন, প্লাস্টিক দূষণ হল পরিবেশ কর্তৃক প্লাস্টিক পদার্থের আহরণ। যা মানবজাতীর ওপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে। মানুষের অসচেতনতাই প্লাস্টিক দূষণের প্রধান কারণ। প্লাস্টিক এমন এক রাসায়নিক পদার্থ যা পরিবেশে পচতে প্রচুর সময় লাগে। তাই একে “অপচ্য পদার্থ” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। তাই প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে বলে পরিবেশবিদরা অভিমত ব্যাক্ত করেন।

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়’র প্রানীবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড.মো.কামরুজ্জামান মনির বলেন, পানির মধ্যে উদ্ভিদ কনা ও প্রানী কনা থাকে। যা খালি চেখে দেয়া যায়না। সাধারনত উদ্ভিদকূল, জলজ প্রানী, দ্বীপ অঞ্চলের প্রানীরা প্লাস্টিক বর্জ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য নদীতে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রাণীর বাসস্থান, খাদ্য সংগ্রহের স্থান ও উদ্ভিদের খাদ্য গ্রহণের পথে বাধার সৃষ্টি করে। শুধুমাত্র উদ্ভিদ বা জলজ প্রাণী নয়, মানুষ প্লাস্টিক দূষণের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।