১৪, মে, ২০২১, শুক্রবার | | ২ শাওয়াল ১৪৪২

চাঁদপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ : আহত ১০

আপডেট: ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮

চাঁদপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি  সংঘর্ষ : আহত ১০

চাঁদপুর শহরে বিএনপি আওয়ামী-লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বিএনপি প্রার্থীর বাড়ির সামনে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিএনপি প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী দীপু মনির বাসার মাঝামাঝি স্থানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

হামলায় রাস্তার দু’পাশে থাকা বিএনপি প্রার্থীর বাড়ি প্রধান ফটক ও আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বাড়ির জানালার গ্লাস ভাংচুর করা হয়েছে।

এতে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থানে চিকিৎসা নিয়েছে।

আহতরা হলেন, বিএনপির আব্দুর রহিম, লুৎফর রহমান সজিব, রাজীব দাস, ইউসুফ, জাহাঙ্গীর, মনির মুন্সী, জাকির, শাহ আলম, জাকির, নাছির উদ্দিন, আনোয়ার মজুমদার, রাসেল শেখ, ফখরুল ইসলাম, হোসেন গাজী, রাজু বেপারী, মোজাহিদ, নাদিম, মামুন বহদারসহ আরো অনেকে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 
ছাত্রলীগের আরাফাত আরাফ, পাভেল, রেজাউল রকি, মুন্না ও নিটুসহ বেশ কয়েকজন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

এছাড়াও এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন পথচারীও গুরুত্বর আহত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১১টায় চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে বিএনপির নির্বাচনী চিফ এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সলিমউল্যাহ সেলিমকে পুলিশ আটক করে। এরপর দুপুরে বিএনপির উত্তেজিত নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিএনপির প্রার্থী শেখ ফরিদ উদ্দিন মানিক বলেন, নির্বাচন যাতে না করতে পারি সেজন্য একের পর এক আমার নেতাকর্মীদের আটক করছে পুলিশ। প্রচারণা থেকে আমার নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম উল্লাহ সেলিমকে আটক করে পুলিশ। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ নিয়ে থানায় অবস্থান নেয় আমাদের নেতাকর্মীরা। আমার নির্দেশে নেতাকর্মীরা থানা থেকে যখন ফিরে আসছিল তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর পুলিশের সহযোগিতায় হামলা চালায়। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপি প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ নেতাকর্মী নিয়ে প্রচারণায় নামলে পুলিশ ও বিজিবি ঘেরাও করে সেখান থেকে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম উল্লাহ সেলিমকে আটক করে।

তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় অবস্থান নেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক । খবর পেয়ে বিএনপির শত শত নেতা কর্মী থানার সামনে অবস্থান নেয়। পরে সবাইকে নিয়ে নিজ বাসভবনে ফেরার পথে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ।

এব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানার অফিচার্স ইনচার্জ নাসিম উদ্দিন জানায়,যে মামলায় অ্যাড.সেলিম উল্লাহ সেলিমকে আটক করা হয়েছে পরে জানতে পারলাম উচ্চ আদালত থেকে ওনি সেই মামলায় জামিনে রয়েছে।তবে শেখ ফরিদ আহমেদের গাড়ি ও গাড়ির চালককের বিষয়ে আরো তদন্ত রয়েছে।

চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, বিজিবি ও পুলিশের একটি দল বিএনপি নেতা সলিমউল্যাহ সেলিমকে আটক করে। এ সময় মারবেল ও গুলাইলসহ একটি গাড়িও জব্দ করা হয়।