২০, আগস্ট, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১ মুহররম ১৪৪২

রূপসা রেলসেতু: অপেক্ষায় খুলনাবাসী

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০১৯

  • Facebook Share
রূপসা রেলসেতু: অপেক্ষায় খুলনাবাসী

রাহিদ হোসেন রুদ্র (খুলনা হতে) : কিছুদিন পর থেকে ভোগান্তি পোহাতে হবে না আর। রূপসা নদীতে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে রূপসা রেলসেতু নির্মাণ করার কাজ।
নদী শাসন ও পাইলিং করার পর উঠতে শুরু করেছে পিলার।আর নির্মাণস্হলে স্পান বসানোর পর আকৃতি পাওয়ায় বোঝা যাচ্ছে কেমন হবে, খুলনা-মোংলা রেলসেতুর অবয়ব। সেতুর পশ্চিম পাড় বটিয়াঘাটা উপজেলার পুটিমারী ও পূর্বপাড়া খাড়াবাদ এলাকায় দিন-রাত বিরামহীন চলছে কর্মযজ্ঞ। সেতু এখন স্বপ্নের খোলস থেকে বেরিয়ে রূপ নিয়েছে দৃশ্যমান বাস্তবতায়। কর্মী, শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের যন্ত্রের টুংটাং শব্দে মুখরিত পুরো এলাকা।
দিন যত যাচ্ছে ততই রূপসার বুকে একের পর এক খুঁটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে পড়ছে। নদীর প্রবল জোয়ারের পরও নদীর দুধারে কাজের মাঝে ফাকি নাই। ২০২০ সালের মধ্যে সারাদেশের রেল যোগাযোগে যুক্ত হবে মোংলা বন্দর। বিশেষ প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১০ সালের ২১শে ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) খুলনা-মোংলা রেল লাইন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। পরে ২০১২ সালের নভেম্বরে প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পায় ভারতের সিইজি নিপ্পন কোয়ি জেভি প্রতিষ্ঠান। ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর রূপসা রেলসেতুর পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন। খুলনা-মোংলা রেলপথের কাজ ৩টি অংশে বিভক্ত করা। যথাঃ রেলসেতু, রেললাইন ও টেলিযোগাযোগ ও সিগন্যালিং। খুলনার ফুলতলা থেকে মোংলা পর্যন্ত ৮টি স্টেশন হচ্ছে। স্টেশন গুলো হলো ফুলতলা,আড়ংঘাটা, মোহাম্মদ নগর , কাটাখালী,চুলকাঠি,ভাংগা,দিগরাজ ও মোংলা। খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০কোটি ৬১লাখ টাকা। এর মধ্যে রেললাইনের জন্য ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৮৯ লাখ এবং সেতুর জন্য ১ হাজার ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অবশিষ্ট অর্থ গ্রহণে ব্যয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ও ভারতের আর্থিক সহযোগিতায় এটি নির্মাণ হচ্ছে। ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টাব্র রূপসা নদীর ওপর মূল রেলসেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বঙ্গবন্ধু কন্যা মাদার অফ হিউম্যানিটি বারংবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা এর প্রতিশ্রুত। এটি সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দরে আরও গতির সঞ্চার হবে। দেশী বিদেশী পর্যটকদের জন্য খুবই উপকারী হবে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোব ফরেস্ট ভ্রমণ। রূপসা রেলসেতুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশন ম্যানেজার সুব্রত জানান, বাংলাদেশের প্রথম সুপার স্ট্রাইকারের রেলসেতু এটি। রেলওয়ে সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম ডেইলি জানিয়েছিলেন, খুলনার-মোংলা রেলপথ নির্মাণ কাজটি জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রকল্প এলাকার খুলনা ও মোংলা উভয় দিক থেকে শুরু হবে।
তিনি বলেন, খুলনা পার্শ্ব থেকে মোট ৬ কিলোমিটার নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং রেলওয়ে লাইন থেকে কমপক্ষে ২৩ কিলোমিটার নির্মাণ মোংলা সাইড থেকে নির্মাণ করা হয়েছে।
এর আগে জমি অধিগ্রহণ, জরিপ, মাটি পরীক্ষা এবং কাদা খনন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং রূপসা নদীতে রেলপথ সেতু নির্মাণ চলছে, সেতুটির এক পাশ নদীর তীরে অবস্থিত পুটিমারী সড়কের সাথে সংযুক্ত হবে। অন্যদিকে নদী নদীর পূর্ব তীরে রূপসা সড়কের সাথে সংযোগ স্থাপন করা হবে।
তবে তিনি বলেন, খুলনা-মংলা রেলওয়ে লাইন নির্মাণের জন্য কমপক্ষে ৭১৮ একর জমি প্রয়োজন এবং কমপক্ষে ৭০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত জমি মালিক ইতিমধ্যেই তাদের ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, বাকিরা শীঘ্রই তদন্তের পরেই পরিশোধ পাবে।
প্রকল্পের অধীনে মোট ৬৪.৭৫ কিলোমিটার বিস্তৃত গেজ লাইন, ২১.১১ কিমি লুপ, ৪৪১৩ কিলোমিটার রাস্তা, ৭.১৮ কিলোমিটার রেলপথ ব্রিজ। প্রকল্পটি সম্পন্ন করার পর মংলা বন্দরের মাধ্যমে ভারত, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা বৃদ্ধি পাবে।
সিঙ্গেল ব্রডগেজের এ সেতুর দৈর্ঘ্য ৫ কিলোমিটার। ৮৩৬ টি পাইলের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে ৬৩৭টির। পিয়ার ক্যাপ ১৩২টির মধ্যে ২১টির কাজ শেষ হয়েছে। সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ১৪২ টি স্তম্ভ নির্মাণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তভে ১৪২টি স্প্যানের মধ্যে দুটি বসানো হয়েছে জানুয়ারি এর মধ্যেই। ১৩২ টি পিলারের মধ্যে ৭টি সম্পন্ন হয়েছে। পিলার ক্যাপ ১৩২ টির মধ্যে ৬টি। এর মাধ্যমে সেতুর মোট ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আর ২০২০ সালের মার্চ নাগাদ পরো কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রেলসেতুর কাজে নিয়োজিত এ কর্মকর্তা।।