আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০১৮

আপডেট:

কয়রা প্রতিনিধি, শাহ হিরোঃ কয়রা উপজেলাধীন কয়রা সদর ইউনিয়ন সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদে আকষ্মিকভাবে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। কপোতাক্ষের করাল গ্রাসে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার চরম আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এলাকাবাসি। যে কোন সময় লোনা পানি ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে এলাকাবাসির ঘরবাড়ি, আদালত, থানা ভবন, রেজিষ্ট্রি অফিস সহ উপজেলা পরিষদের সকল স্থাপনা। ক্ষয়-ক্ষতি ঘটতে পারে এলাকার ফসলী জমি ও মৎস্য ঘেরের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদের। জীবনহানি ঘটতে পারে মানুষ সহ এলাকার অসংখ্য গবাদি পশু-পাখির।
সরেজমিন দেখা যায়. কয়রা উপজেলা পরিষদ হতে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/২ পোল্ডারের অধীনে মদিনাবাদ লঞ্চঘাট সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের ভেড়িবাঁধে ফাটল ও ভাঙন ধরেছে। গত সোমবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে হঠাৎ করে উল্লেখিত স্থানের প্রায় ৩’শ মিটার দীর্ঘ ভেড়িবাঁধের সিংহভাগ ধ্বসে কপোতাক্ষ নদের গভীরে বিলিন হয়ে যায়। এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা যায়, এর আগে ঐ এলাকার ভেড়িবাঁধ ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে নদীতে বিলিন হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়লেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন স্থলে স্থানীয় ভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস. এম. শফিকুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ সংস্কারের কাজ করছেন বলে জানা গেছে। এব্যাপারে কয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস. এম. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে স্থানীয় এলাকবাসিকে সাথে নিয়ে ভেড়িবাঁধ রায় কাজ করা হচ্ছে। তবে জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে উপজেলা পরিষদ সহ গোটা এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক য়-তির সম্মুখীন হবে এব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু লঞ্চঘাটের ঐ অংশই নয়, উক্ত এলাকার এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তড়িৎ গতিতে সরকারীভাবে ভাঙনরোধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে আবারও আইলার মতো কয়রার বিস্তিীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের আমাদী সেকশান কর্মকর্তা মশিউল আলম বলেন, ‘মদিনাবাদ লঞ্চঘাটের ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙনরোধে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তপকে অবহিত করা হয়েছে। তবে তড়িৎ গতিতে কাজ করা হবে বলে তিনি জানান। কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা বলেন, স্থানীয়দের নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের প থেকে ভাঙনরোধে কাজ করানো হচ্ছে। এছাড়া ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে।