১৯, আগস্ট, ২০২০, বুধবার | | ২৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নয়, “চাই পূর্ণাঙ্গ আদর্শিক ধর্মীয় রাজিনীতির চর্চা”

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯

  • Facebook Share
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নয়, “চাই পূর্ণাঙ্গ আদর্শিক ধর্মীয় রাজিনীতির চর্চা”

জি এম শরীফ মাছুম বিল্লাহহাইমচর প্রতিনিধি, চাঁদপুরঃ ভিন্ন ভিন্ন পরিসরে শব্দের পরিভাষা ভিন্ন। একটা সময় ছিল যখন মোল্লা বলা হতো রাজসভাসদ, সরকারী কর্মচারী বা গোষ্ঠী প্রধানকে। এখন আমরা সময়ের এমন একটা পরিসরে বাস করছি যখন মোল্লা বলতে দাড়ি টুপি ওয়ালা যে কোন লোককেই বোঝানো হয়। এমনকি সম্মানজনক মোল্লা শব্দের পরিভাষা এখন তুচ্ছার্থক। তাই এই “মোল্লা” সম্বোধন হরহামেশাই শোনা যায়।এমনটা কেন হয়?
কারণ, একই শব্দের পরিভাষা ভিন্ন ভিন্ন পরিসরে ভিন্ন। কেবল চিন্তক বা গভেষক লোকেরাই বামপাড়ায় বহুল আলোচিত, কথিত ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর ইসলামিক অঙ্গনে প্রচলিত আদর্শিক ধর্মীয় রাজনীতির মধ্যকার সুক্ষ্ম। অথচ গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বুঝতে পারবে।
এমন সুক্ষ্ম শব্দ চর্চা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো যায়গায় হতে পারে। গলির অলি এটা নিয়ে চিন্তিত হলে বড্ড বেমানান হবে। যাদের কাছে ইসলাম কেবল একটি ধর্মের নাম তাদের কখনো ইসলাম যে একটা পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম, একটা আদর্শের নাম এই বোধ জন্মাবে না।
বামপাড়ায় বহুল ব্যবহৃত “ধর্মভিত্তিক সংগঠন” শব্দদ্বয় যে পরিভাষায় ব্যবহৃত হয় একই পরিভাষা ইসলামিক স্কলারদের মধ্যে দেখা গেলে সেটা দুঃখজনক হবে।
সম্প্রতি প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের (ওদের পরিভাষায়)  সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য নিয়ে সমালোচক মহলে সৃষ্ট জটিলতার কারণও একই, ভিন্ন পরিসরে একই শব্দের ভিন্ন পরিভাষা বুঝতে না পারা। পাশাপাশি হলুদ সাংবাদিকতার কৌশলী পরিবেশনও দায়ী।
কওমী অঙ্গনে ইসলাম, ধর্ম, দ্বীন, ইসলামী জীবনব্যবস্থা যাই বলেন না কেন তারা পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক অর্থটাই বুঝে নিবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বহু আদর্শ বা দর্শন চর্চার যায়গায়, বিশেষ করে বাম পাড়ায় ইসলাম একটি ধর্মের নাম মেনে নেয়া সহজ। কিন্তু ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম, একটি প্রতিদ্বন্দ্বী আদর্শের নাম এটা মেনে নেয়া বা কাউকে মানানো কঠিন।
তারা চায় ইসলামকে কেবল নামজ, রোজা সর্বস্ব একটা ধর্মে পরিণত করতে। এটা ওদের একটা আন্দোলন, যার সূচনা বহুকাল পূর্বে হয়েছিল। রাষ্ট্র ও রাজনীতি থেকে ধর্মকে আলাদা করার আন্দোলন এটা। আমাদের নিকট ধর্মের পরিভাষা ভিন্ন, আমরা কেবল নামাজ রোজা সর্বস্ব কোন ধর্মভিত্তিক সংগঠন নই। আমরা একটি আদর্শিক ধর্মীয় সংগঠন।যে আদর্শ দিয়ে আমরা কার্লমার্ক্স, লেলিল, স্টালিন থেকে শুরু করে আব্রাহাম লিঙ্কনের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ভিন্ন একটি রাজনৈতিক আদর্শ, ভিন্ন একটি দর্শন দাড় করাতে পারি। যে আদর্শের দ্বন্দ্বে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।
তাই এই পরিসরের পরিভাষায় ব্যবহৃত ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নয়,”চাই পূর্ণাঙ্গ আদর্শিক ধর্মীয় রাজিনীতির চর্চা”।