১৯, আগস্ট, ২০২০, বুধবার | | ২৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

কুবিতে অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপিত

আপডেট: মে ২৬, ২০১৯

  • Facebook Share
কুবিতে অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপিত

সিফাত, কুবি প্রতিনিধি/ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে(কুবি) ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বাজেট প্রস্তাবনা ২০১৯-২০’ উপস্থাপিত হয়েছে। বাজেট প্রস্তাবনাটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কুমিল্লা অঞ্চলে তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টির অর্থনীতি বিভাগ।

শনিবার(২৫মে) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ভার্চ্যুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ শামিমুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মুহ. আমিনুল ইসলাম আকন্দ, সহযোগী অধ্যাপক ড. স্বপন চন্দ্র মজুমদারসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আলোচকরা একটি দ্রুত সম্প্রসারণশীল বৃহদায়তন বাজেট প্রস্তাব করেন যার আকার হবে ১২ লক্ষ ৪০হাজার ৯০কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বিকল্প বাজেটটি আসন্ন সম্ভাব্য জাতীয় খসড়া বাজেট(৫লক্ষ ২৫হাজার কোটি টাকা) এর তুলনায় ২.৬৭গুণ বৃহৎ। তবে এই বৃহৎ বিকল্প বাজেট বাস্তবায়নে বিদেশী নাগরিকের উপর কর, সেবা থেকে প্রাপ্ত কর, সম্পদ কর, বিমান পরিবহন ও ভ্রমণ করসহ আয়ের ২০টি নতুন খাত উপস্থাপন করেছেন আলোচকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন – প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের রাজস্ব আয় থেকে ৮১শতাংশ বা ১০লক্ষ ২হাজার ৫১০কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট ১৯শতাংশ বা ২লক্ষ ৩৭হাজার ৫৮০কোটি টাকা ঘাটতি অর্থায়ন হবে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারত্ব (মোট ১লক্ষ কোটি টাকা, যেখান থেকে ঘাটতি অর্থায়নের ৪২%), বন্ড বাজার (৬৪হাজার ৫৮০কোটি টাকা যা ঘাটতি অর্থায়নের ২৭%), সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ গ্রহণ (৫০হাজার কোটি টাকা যা ঘাটতি অর্থায়নের ২১%) এবং দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ (২৩হাজার কোটি টাকা যা ঘাটতি অর্থায়নের ১০%) এর মাধ্যমে। শূণ্য শতাংশ বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা প্রস্তাবিত এই বাজেটের বিশেষ দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনায় কর প্রসঙ্গে অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ শামিমুল ইসলাম বলেন- “প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর সাধারণ মানুষের উপরই বর্তায়। তাই আমরা এ খাতে চাপ নিরসনে প্রস্তাব করছি।”

পূর্বের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বৃহদায়তন বাজেটের গ্রহণযোগ্যতা বা বাস্তবায়নের সক্ষমতা সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মুহ. আমিনুল ইসলাম আকন্দ বলেন- “আমরা মনে করি দুর্নীতি, কালোবাজারি ইত্যাদি শূণ্যের কোঠায় নেমে আসবে ধরে বাজেট প্রস্তাব করছি। যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, আমরা সবাই সৎ হয়ে কাজ করি তাহলে বৃহৎ বাজেটও ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখতে পারি। নয়তো সম্ভব হবে না।”

বাজেট দেশীয় খাতকে গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক ড. স্বপন চন্দ্র মজুমদার বলেন-
“বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে আমরা বাজেট প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছি।”

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি প্রস্তাবিত এই “বিকল্প বাজেট ২০১৯-২০” গত ৫বছর যাবত উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা একযোগে ঢাকা, কুষ্টিয়া, কক্সবাজার, কুমিল্লা, খুলনাসহ দেশের ২৬টি অঞ্চলে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।