১৯, আগস্ট, ২০২০, বুধবার | | ২৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

বাংলাদেশের পানি দূষণ রোধে ইটিপি ফর্মুলা বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করণ” শীর্ষক আলোচনা সভা করেন- সবুজ আন্দোলন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

  • Facebook Share
বাংলাদেশের পানি দূষণ রোধে ইটিপি ফর্মুলা বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করণ” শীর্ষক আলোচনা সভা করেন- সবুজ আন্দোলন

ফয়েজ আহাম্মেদ, বিশেষ প্রতিনিধি ::   

আজ (২২ সেপ্টেম্বর) রবিবার পরিবেশবাদী সামাজিক সংগঠন সবুজ আন্দোলনের উদ্যোগে “বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে “বাংলাদেশের পানি দূষণ রোধে ইটিপি ফর্মুলা বাস্তবায়ন বাদ্ধতামূলক করন” শীর্ষক আলোচনা সভা জাতীয় প্রেসক্লাব (ভিআইপি লাউঞ্জ) ২য় তলা,অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত আলোচনা সভার আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, চেয়ারম্যান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, মোঃ শাহীন আহমেদ, সভাপতি, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, জোনায়েদ সাকী, প্রধান সমস্বয়কারী গণসংহতি আন্দোলন, মোঃ সোবহান হক, সাবেক অতিরিক্ত মহা পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, এম.মানিকুজ্জামান, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ,বিভাগীয় প্রধান, পরিবেশ বিজ্ঞান, ববি হাজ্জাজ, চেয়ারম্যান, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম আরো বক্তব্য রাখবেন সংগঠনের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সবুজ আন্দোলন পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার।

সবুজ আন্দোলনের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার বলেন, ETP, Effluent Treatment Plant হচ্ছে, শিল্প কারখানার তরল বর্জ্য পদার্থকে যে plant এর মাধ্যমে পরিশোধন করে সাধারন পানির মত করে পুনঃব্যবহার করার উপযোগী করে বা শিল্প কারখানা থেকে নির্গত পানি যেন পরিবেশকে দূষিত করতে না পারে সে জন্য যে প্লান্ট ব্যবহার করা হয় তাকেই ETP plant বলে। ইটিপি হচ্ছে একটি প্রসেস যার মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি এর অপরিশোধিত পানি পরিশোধিত করা হয়। ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক পানি প্রয়োজন আবার সে পরিমাণ পানি নির্গমন করতে হয় প্রোডাক্ট প্রস্তুত শেষে। মূলত প্রোডাকশনের জন্য প্রথমে যে পানি ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করানো হয় সেটা বিশুদ্ধ পানি কিন্তু যে পানি নির্গমন করা হয় সে পানি বিশুদ্ধ নয়। ওই পানি দুষিত। অনেক জীবাণু, ময়লা, বিষ ও বিষাক্ত অপদ্রব্যও থাকে যা পরিণত হচ্ছে মানুষের মৃত্যুর কারণ ও পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য হুমকি। তাই ওই পানি কে পরিবেশ বান্ধব করার জন্য বা মানুষের ক্ষতি দূর করার জন্য যে প্রক্রিয়া তা হচ্ছে ইটিপি। এর মাধ্যমে সব অপদ্রব্য দূর করা সম্ভব। এমন কি ওই পানি আবার ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহার করা যায় এবং পরিবেশের কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু এই পদ্ধতি যদি ব্যবহার না করার ফলে নদীর পানি দূষিত হয়ে জলজ প্রাণী ধ্বংস ও আবাদি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। সারাদেশে বিভিন্ন শিল্পকারাখানার বিষাক্ত পানি নদী, নালা. খাল-বিলের পানিকে দূষণের ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এখনই ইটিপি পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করে প্রতিটি কারাখানায় স্থাপন না করা হলে দেশ পরিবেশ বিপর্যয়ে পড়বে। ইতিমধ্যে ঢাকার আশেপাশের নদীগুলোর পানি দূষিত হয়ে গেছে।

নদী দূষণ রোধে সবুজ আন্দোলনের প্রস্তাবনা সমূহ:  ১. মিল-ফ্ল্যাক্টরীর দূষিত পানির সংযোগ সরাসরি নদীতে না দিয়ে নদীর দুই ধারে ছোট পরিসরে খাল খনন করে খালের সংযোগ মুখে রাষ্ট্রীয়ভাবে ট্রিটমেন্ট প্লাট তৈরি করে পরিশোধিত পানি নদীতে প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে। ২. প্রত্যেক কারখানায় ইটিপি ফর্মূলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে ।  ৩. কঠিন বর্জ্য পদার্থ পানিতে মিশতে দেওয়ার পথ বন্ধ করতে হবে ।  ৪. মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা ভাবে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করতে হবে। ৫. যে যতটুকু দূষণ করছে, তাকে সেই অনুয়ায়ী জরিমানা ও সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করতে হবে। এছাড়া সরকারি দপ্তরের ব্যক্তিদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার আইন প্রণয়ন করতে হবে । ৬. নদী দূষণ রোধে উৎস মুখে বাঁধ দেওয়া সহ জনসচেতনা গড়ে তুলতে হবে । ৭. সড়ক সম্প্রসারণের নামে ইচ্ছামতো বাঁধ দিয়ে খালের ওপর সড়ক নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। বন্ধ হওয়া খাল গুলোকে আবার ফিরিয়ে এনে খালে রূপান্তরিত করতে হবে ।  ৮. নদীর পানি ব্যবহার উপযোগী করার জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করতে হবে ।  ৯. ঢাকার পশ্চিম ও পূর্ব দিকে অনেক খাল ছিলো এই খালগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে হবে ।  ১০. মৌসুমি সময়ে যমুনা নদী থেকে খাল ও নদে পানি আসে। কিন্তু শুল্ক মৌসুমে জোয়ার ভাটার কারণে পানি সামান্য থাকে তাই এখানে পানি আনার উৎস নিয়ে ভাবতে হবে । ১১. আইন সংশোধন করে কমিশনকে শক্তিশালী করতে হবে, নদী আদালত গঠন করতে হবে । ১২. নদী দূষণ প্রতিকারে ও নদী রক্ষায় রাজনীতিবীদদের সদিচ্ছা ছাড়া কিছু করা সম্ভব নয়। জনপ্রতিনিধিদের কে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে ।  ১৩. নদীগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে তাই ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে গভীরভাবে নদী খনন করে শাসনের আওতায় আনতে হবে ।