২০, আগস্ট, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১ মুহররম ১৪৪২

ইউএনও এর বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস,সাংবদিক আল মামুনকে ডেকে হেনস্তার অভিযোগ

আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৯

  • Facebook Share
ইউএনও এর বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস,সাংবদিক আল মামুনকে ডেকে হেনস্তার অভিযোগ


ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
‘ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায়’ ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিক আল মামুন জীবনকে কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে ইউএনও খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে।

রবিবার সন্ধ্যার ৭টার দিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

সাংবাদিক আল মামুন জীবন দৈনিক অধিকার পত্রিকার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন এবং বালিয়াডাঙ্গী প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিয়াডাঙ্গী অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়শনের সাবেক সভাপতি।

অভিযুক্ত খায়রুল আলম সুমন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দুপুরে সাংবাদিক আল মামুন জীবন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেন ‘ছবি তোলার পরই র‌্যালি শেষ, বালিয়াডাঙ্গীতে উদযাপিত হলো বাল্যবিবাহ নিরোধ দিবস, দায়ভার ইউএনও’র উপর চাপাচ্ছেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। এই স্ট্যাটাস নিয়ে ইউএনও খায়রুল আলম সুমন সাংবাদিক মামুনের উপর ক্ষিপ্ত হন।

সাংবাদিক আল মামুন জীবন বলেন, মাগরিবের আযান দেওয়ার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস সহায়ক কুদ্দুস আলী আমার অফিসে এসে বলে ইউএনও স্যার আপনাকে ডেকেছে। আপনার সাথে কথা বলে নামাজ পড়বেন। নামাজ পড়বেন এমন কথা শুনে দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের রুমে যায়।

সেখানে তিনি তার নিজস্ব স্মার্টফোন দিয়ে আমার দিকে ভিডিও রেকর্ডিং চালু করে দিয়ে বলেন, আপনি যে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার জন্য একটা ভিডিও বক্তব্য নিবো। রীতিমত জোর করেন তিনি ভিডিও নেওয়ার পরে। স্ট্যাটাসের বিস্তারিত বর্ণনা দিলে তিনি কথার মোড় অন্যদিকে ঘুড়িয়ে আমাকে বলেন পরে আপনার সাথে কথা বলবো।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কর্মরত সাংবাদিকরা। তারা বলেন সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে প্রশাসন।

বালিয়াডাঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি এন এম নুরুল ইসলাম বলেন, সত্য কথা তুলে ধরলেই সাংবাদিকরা খারাপ। গত কয়েকদিন ধরে একটা ভিডিও বক্তব্যের জন্য ইউএনওকে কয়েকবার বলার পরও তিনি বক্তব্য দেননি। তাছাড়া একজন সাংবাদিককে তিনি এভাবে ডেকে হেনস্তা করার কোনো অধিকার রাখেন না।

বালিয়াডাঙ্গী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বালিয়াডাঙ্গী অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আলী বলেন, যদি কেউ অন্যায় করেন তবে সাংবাদিকরা তা কলম দিয়ে লিখে প্রকাশ করেন ৷সরকার নিজেও বলেছেন সাংবাদিকরা সত্য ঘটনা তুলে ধরবে৷কিন্তু এই সত্য ঘটনা তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন ৷ এভাবে চলতে থাকলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ লিখবে না৷ কিন্তু স্বাধীনভাবে সবার মত প্রকাশের অধিকার আছে ৷ তাই সাংবাদিক আল মামুন জীবনের সাথে এমন আচরণের আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ৷
ঠাকুরগাঁও অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিয়াউর রহমান বকুল বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পন। সমাজের যে কোন ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরাই সাংবাদিকদের কাজ। ঘটনাগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরাই যদি আমাদের ভুল হয় তাহলে বাকরুদ্ধ হয়ে থাকা ছাড়া আর কোন পথ নেই। সাংবাদিক মামুনের সাথে ইউএনও’র এমন আচরণে নিন্দা জানান তিনি।

এ বিষয়ে ইউএনও’র বক্তব্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল আলম সুমন মুঠোফোনে বক্তব্য দেওয়া যাবে না বলে ফোন কেটে দেন।

উল্লেখ্য, শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১টায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ দিবসের র‌্যালি হবে এমন খবর পেয়ে দুজন সাংবাদিক মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত উপজেলা পরিষদের ভেতরে যান।

মাত্র দু-তিন মিনিটেই উপজেলায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার আয়োজনে বাল্যবিবাহ নিরোধ দিবসের র‌্যালি, সভা ও দিবস উদযাপন শেষ হয়ে গেছে। এমন ঘটনা দেখতে পান কর্মরত দুইজন সাংবাদিক। ব্যানার গোছাচ্ছেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার এক কর্মচারী। এগিয়ে গিয়ে তার নিকট অনুষ্ঠান কি শেষ হয়ে গেল? জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন অনুষ্ঠান শেষ। সবাই চলে গেছে।

তার কাছ থেকে আরও জানা গেল উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল আলম সুমন, উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবু বেলাল ছিদ্দিকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ছবি তোলা শেষে অনুষ্ঠান সমাপ্তি করা হয়েছে। সময় স্বল্প তাই অনুষ্ঠান শেষ।

অথচ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতি সচিব) বদরুন নেছার স্বাক্ষরিত গত ৯ অক্টোবর দেওয়া ২২৫ নম্বর স্মারকের একটি পত্রে বলা হয়েছে ১৩ অক্টোবর জাতীয় ভাবে বাল্যবিবাহ নিরোধ দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এ উপলক্ষে সকল জেলা-উপজেলায় বেলা ১১টায় সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় পূর্বক দিবসটি উদযাপনের জন্য অনুরোধ করা হলো।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নির্দেশনা অমান্য করে প্রায় ২ ঘণ্টা দেরিতে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে তাও আবার ছবি তোলার মধ্য দিয়ে শেষ। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবু বেলাল ছিদ্দিকের নিকট মুঠোফোনে ১.১৮ মিনিটে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউএনও সাহেবের সময় ছিল নাতো। এজন্যই দ্রুত শেষ করে দিয়েছি। ইউএনও ছাড়া কি র‌্যালি বাহিরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না, প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আপনি ইউএনও সাহেবকে জিজ্ঞাসা করেন বলেই ফোন কেটে দেন।

এ নিয়ে দৈনিক অধিকারের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি তার নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে ‘ছবি তোলার পরই র‌্যালি শেষ। বালিয়াডাঙ্গীতে উদযাপিত হলো বাল্যবিবাহ নিরোধ দিবস। দায়ভার ইউএনওর ওপর চাপাচ্ছেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা।’ লিখে স্ট্যাটাস দেন।