আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৯

আপডেট:

জবি প্রতিনিধিঃ
উন্নয়নের জন্য সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন’ স্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল (রবিবার) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানসমূহের মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা, বার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, নাটক পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রকাশনা উৎসব।
রোববার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। এসময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, রেজিস্টার, চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের নেতৃত্বে ব্যান্ডদলে সুসজ্জিত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শোভাযাত্রাটি শহীদ মিনার চত্বর হতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে রায় সাহেব বাজার মোড় ঘুরে, বাংলাবাজার ওভারব্রিজ পরিক্রমণ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় গেট দিয়ে প্রবেশ করে শেষ হয়। এসময় প্রতিটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ নিজস্ব বিভাগীয় ব্যানারে র্যালিতে অংশগ্রহণ করে।
র্যালি শেষে সকাল সাড়ে ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের নিচতলায় চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে ২য় বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০১৯ এর উদ্বোধন করা হয়।
এরপর সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলের সার্বিক সহযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আজ প্রতিষ্ঠিত। একাডেমিকভাবে সেশনজট মুক্ত, কারিকুলামের আধুনিকায়ন ও মেধাবী শিক্ষকবৃন্দের প্রয়াসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আজ সকল অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দের ভর্তির জন্য মূল আকর্ষণ। এছাড়াও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর কোন র্যাগিং ও অন্য রকম অন্যায় আচরণের ঘটনা সংঘটিত হয় না। এই সকল ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সজাগ রয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ই বাংলাদেশে একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে ১০৪ জন অধ্যাপকের মধ্যে ১০১ জন অধ্যাপক পি.এইচ.ডি ডিগ্রিধারী বাকি ৩জনের ডিগ্রি প্রক্রিয়াধীন। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২০২০ সালের জুন মাসের পর কোন শিক্ষক পি.এইচ.ডি ডিগ্রি ছাড়া অধ্যাপক পদে প্রমোশন পাবে না। গবেষণায় তরুণ শিক্ষকবৃন্দ অনেক এগিয়ে গিয়েছে, প্রায় শতাধিক শিক্ষক ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডার মতো দেশে তাদের উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করছেন এবং কেউ কেউ ডিগ্রি সম্পন্ন করে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন।’
আলোচনা সভায় রেজিস্টার প্রকৌশলী মোঃ ওহিদুজ্জামান-এর সঞ্চালনায় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ শওকত জাহাঙ্গীর, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. পেয়ার আহম্মেদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদা আক্তার খানম, আইন অনুষদের ডিন খ্রীস্টিন রিচার্ডসন প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন।
পরে সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক ‘লাল জমিন’ পরিবেশিত হয়।এছাড়াও ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচতলায় দিনব্যাপী প্রকাশনা প্রদর্শনীর আয়োজিত হয়।
বেলা সাড়ে ১২টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসময় ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয় সঙ্গীত, আবৃত্তি, নাটক ইত্যাদি। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যান্ডদলের শিল্পীরা ধারাবাহিকভাবে মনোমুগ্ধকর গান পরিবেশন করে মাতিয়ে রাখে দর্শকদের।