১৯, আগস্ট, ২০২০, বুধবার | | ২৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

কওমি মাদরাসা থেকে ফ্রিল্যান্সার হয়ে উঠার গল্প

আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০১৯

  • Facebook Share
কওমি মাদরাসা থেকে ফ্রিল্যান্সার হয়ে উঠার গল্প

এ.এম.আব্দুল ওয়াদুদ (শেরপুর জেলা প্রতিনিধি) মিনহাজ উদ্দিন একজন কওমি মাদরাসার ছাত্র।  যার পরিশ্রম, ইচ্ছা আর দৃঢ় প্রত্যয়ের কাছে হার মেনেছে সকল প্রতিবন্ধকতা। এটা কোন রূপকথার গল্প নয়, এটা সকল বাধাকে জয় করে একজন সফল আইসিটি উদ্যোগতা ও ফ্রিল্যান্সার হয়ে উঠার বাস্তবতা। আমাদের জেলা প্রতিনিধি এ.এম.আব্দুল ওয়াদুদ জানাচ্ছিলেন শেরপুরের সফল ফ্রিল্যান্সার মিনহাজ  উদ্দিনের কথা।যিনি এখন হতাশাগ্রস্ত যুবকদের নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।
টিউশনির আয়টুকুই ছিল তাঁর সম্বল। মা–বাবা, ছোট বোনকে নিয়ে সংসার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। কওমি  মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস শেষ করে মিনহাজ শেরপুর সরকারি কলেজে স্নাতকে ভর্তি হন। একটা চাকরির জন্য খুব চেষ্টা করেছিলেন। হয়নি। ২০১৭ সালে । এলআইসিটি নামে একটা প্রকল্প শুরু হয় শেরপুর সরকারি কলেজে। সেখানে বিনা মূল্যে সফটস্কিল ও গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স করেন। 
কম্পিউটারের প্রাথমিক ধারণা ছিল আগে থেকেই। সেখান থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু। কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা কি শুধু মসজিদ-মাদরাসায় চাকরি করবে? এর বাইরে কি তাদের কোন সুযোগ নেয়?চিন্তা করলেন ভিন্ন কিছু করা যায়কিনা। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যদি ভালো কিছু করতে পারে তাহলে কওমির ছাত্ররা কেন পারবেনা। সঠিকভাবে কোর্স সম্পন্ন করার কিছুদিন পূর্বেই একটি সেবা সংস্থায় চাকরি পেলেন। প্রথম মাসেই বেতন ছিল ২০ হাজার। স্বপ্ন বড় হতে থাকলো। চাকরির পাশাপাশি নিজের ইচ্ছায় ইউটিউব ও গোগল থেকে ওয়েব ডিজাইন শেষ করেন। তারপর ঢাকার উত্তরার সফটটেক আইটি থেকে অনলাইন কোর্সে ভতি হয়ে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেষ করেন। বর্তমানে বাংলাদেশে বসে অস্ট্রোলিয়ার একটা সেবা সংস্থায় আইটি এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করছেন। এ ছাড়াও তিনি নিয়মিত একজন ফ্রিল্যান্সার। অনলাইন মার্কেট প্লেস থেকেও ভালো টাকা উপার্জন করছেন। মিনহাজ জানালেন এখন বাবা-মা, ভাই-বোনকে সহযোগীতা করতে পারছেন। পরিশ্রম করে পাওয়া সাফল্যের আনন্দ এখন তাঁর চোখেমুখে। মিনহাজ বলেন, ‘ এলআইসিটির টেনিং আমার জীবনে একটা বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। ’তিনি মনে করেন, কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা ইচ্ছা করলেই ফ্রিল্যান্সিং এর মত একটা স্মার্ট পেশাকে বেছে নিতে পারে। যুবকদের উদ্দেশ্য আপনার  পরামর্শ কি?তিনি বলেন,বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং একটি স্মার্ট পেশা। চাকরির পিছনে না ঘুরে নির্দিষ্ট একটা বিষয়ের উপর দক্ষ হয়ে ফ্রিল্যান্সিং করলে মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা উপার্জন করা সম্ভব। তাই আমি মনে করি মাদরাসা মসিজদের পাশাপাশি যে কেউ এই পেশায় যুক্ত হতে পারে । দৈর্য্য ধরে কাজ করলে সফলতা আসবে।