আপডেট: এপ্রিল ২, ২০২০

আপডেট:

স্টাফ রিপোর্টার ঃ
খুলনায় করোনা আতঙ্কের মধ্যে যখন দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। ঠিক সেই মুহূর্তে পেটের দায়ে বেকাদায় পড়ছে নগরীর দিনমজুররা।
নগরীর বৈকালী মোড় এলাকায় দেখা যায় নির্মাণাধীন ভবনে লকডাউনের মধ্যে ও কাঠফাটা রোদে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন। কথা হয় শ্রমিক সাঈদ’র সাথে। তিনি বলেন, কি করবো, ঘরে বসে থাকলে তো আর পেট চলবে না। ছেলে মেয়েদের মুখে আহার দিতে হবে। কারও কাছে ধার চেয়েও পাইনি। তাই কন্ট্রাক্টরকে বলে আজই কাজে বেরিয়েছি। যদিওবা কন্ট্রাক্টর আমাদের কাজ করতে নিষেধ করেছিলেন। আমরা অনেক বলে কয়ে কাজ করছি। গরিব মানুষ কি করবো- বলেন খাবার পেলে কাজে আসতাম না।
ঠিক এমনভাবে লকডাউনের মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিচ্ছিলেন একজন গরিব দিনমজুর। এমনিভাবে নগরী ও আশপাশের কয়েক হাজার দিনমজুর পড়েছে বিপাকে। এখনও পর্যন্ত কেউ পায়নি সরকারি সাহায্য।
নির্মাণ শ্রমিক ওসমান গনী বলেন, করোনাভাইরাসের মধ্যে সব কিছু বন্ধ থাকায় আমরা যারা দিনমজুরের কাজে নির্ভর, তারা পড়েছি সব চেয়ে বেশি বিপাকে। সামান্য যা কিছু সঞ্চয় ছিল তা শেষ হয়ে গেছে। ছেলে মেয়ের সংসারে ঘর ভাড়া দিয়ে থাকতে হলে শহরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন। কাজ বন্ধ, নেই কাছে নগদ টাকা। সরকার থেকে শুনেছি চাল ডাল দেবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সকালে আমাদের ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলের কার্যালয়ে যেয়ে দেখি কার্যালয় বন্ধ। নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া রয়েছে।
৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহাফুজুর রহমান লিটন বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণ বিতরণের জন্য তিনশ জনের একটি তালিকা চেয়েছে। আমরা তালিকা করছি। প্রতিটি ইউনিটে ১৮ জন করে। এর মধ্যে বাস্তুহারা ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকা। সেখানেই ত্রাণের প্রয়োজোন একটু বেশি। অনেকে আসছেন ত্রাণের জন্য। যাচাই বাছাই করে কিছু করার চেষ্টা করা হবে।
নগরীর স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, আমরা কাজ বন্ধ করে রেখেছি। তবে শ্রমিকরা কাজের জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। আমাদের যতটুকু পারছি অগ্রিম টাকা দিয়েছি। নগরীতে যতগুলো ইমারত শ্রমিক বা দিনমজুর আছে তাদের জন্য একটি তালিকা করে সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেওয়া উচিত।
খুলনা সিটি কর্পেরেশনের ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র-১ আমিনুল ইসলাম মুন্না বলেন, খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু ত্রাণ আসছে। আমরা দিচ্ছি কর্মহীন দিমজুরদের। তবে কর্পেরেশনের পক্ষ থেকে কিছু দেওয়া হয়নি। কার্যক্রম চলছে- অচিরে ত্রাণ দেওয়া হতে পারে। খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গরিব দিনমজুর কর্মহীন ব্যক্তিদের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করছি।