২৮, অক্টোবর, ২০১৮, রোববার | | ১৭ সফর ১৪৪০

সাস্ট ও এককিলোর ভালবাসা

আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০১৮

  • Facebook Share
সাস্ট ও এককিলোর ভালবাসা
দেলোয়ার হোসেন শাবিপ্রবির প্রতিনিধি ঃ শাবিপ্রবির গেট থেকে মূল ক্যাম্পাসে যাওয়ার এক কিলোমিটার রাস্তার কথা। যাকে সবাই নৈসর্গিক উপমা আর ভালবাসায় ‘এক কিলো’ বলে ডাকে! শাবিপ্রবির জন্মলগ্ন থেকেই,এই ‘এক কিলো’ একটি ইতিহাস!
এই ইতিহাসের সাক্ষী আমি, আমরা, আমার ২৭ বছর পূর্বে ভর্তি হওয়া সিনিয়র এবং অনাগত প্রজন্ম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখ থেকেই শুরু হয়ে যায়; এক অপরূপ প্রাকৃতিক মাদকতা রাস্তার দুই ধারে লাগানো ছাউনির মতো সবুজ-
গাছপালা; প্রতিনিয়ত মৃদুমন্দ বাতাসের মেলা বসায়!
রাস্তা ঘেসে তৈরি হওয়া কৃত্রিম লেক-প্রতিনিয়তই ডুবিয়ে দেয় প্রকৃতি প্রেমীদের।
এইতো,একটু আগেই-
এক প্রেমিক-যুগল,দুজনে দুজনার হাত ধরে
এক কিলো দিয়ে হাটা শুরু করলো,
ভবিষ্যৎ জীবন কিভাবে সাজাবে সেই- চিন্তাভাবনা আগে থেকেই করে নিলো!
এইতো একটু আগেই-
এক সাবেক ছাত্র, হাটতে হাটতে উনার সন্তানকে বলছেন, ‘এই এক কিলো’র জন্যই কোন এক ক্লান্ত বিকেলে আমি তোমার মা’কে পেয়েছিলাম!
এইতো একটু আগেই-
এক বালিকাকে দেখলাম,খালি পায়ে বৃষ্টিতে- ভিজে ভিজে ‘এক কিলো’ রাস্তা পাড়ি দিচ্ছে!
এইতো একটু আগেই-
এক বালককে দেখলাম,উন্মাদের মতো চিৎকার-
করে শিরোনামহীনের গান গেয়ে ‘এক কিলো’ পাড়ি দিচ্ছে, বালকের সাথে যেন মন খুলে নাড়া দিয়ে গাইছে-গাছের সমস্ত পাতারা!
এই ‘এক কিলোতে’ই ক্যামেরা হাতে অনেক- আনকোরা ফটোগ্রাফার স্বপ্নের ফটোগ্রাফি শিখে ফেললো!
শাবিপ্রবির এই ‘এক কিলো’ সত্যিই এক ইতিহাস!
এই রাস্তা অনেক প্রেমিক-প্রেমিকাকে যুগলবন্দী করেছে; তাইতো তারা বারবার স্মৃতি রোমন্থন করার জন্য আসেন! এইতো খানিক আগেই-
এক প্রেমিক-প্রেমিকা ‘এক কিলো’র মধ্যখানে- গভীর চুম্বনে মজেছিলেন খানিকক্ষণ!
ঋতুচক্রে পৌষ-মাঘের কুয়াশা আর শিশিরে-
শুকনো পাতার মরমরে শব্দে ‘এক কিলো’ এমনই মুগ্ধতা ছড়ায়যে, চাইলে শাবিপ্রবির সবাই ‘কবি’ হতে পারতো!
শাবিপ্রবির এই ‘এক কিলো’ ইতিহাসের সাক্ষী ছিল- মিছিলে-মিছিলে,স্লোগানে-স্লোগানে!
দেখে নিও- এই ইতিহাসের সাক্ষী থেকে বাদ যাবেন না স্বয়ং রাষ্ট্রপতিও!
তিনি যখন সমাবর্তনে আসবেন; তখন অভিভূত হয়ে নিজের ফেইসবুকে ‘চেক ইন’ দিবেন-
‘অন দ্যা ওয়ে অফ সাস্ট’স ওয়ান কিলো রোড।”