২০, আগস্ট, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১ মুহররম ১৪৪২

অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট: মে ৫, ২০১৯

  • Facebook Share
অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা জাহিদুর রহমান উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে একই এলাকার অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য মো. গোলাম মোস্তফার ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চেকের মাধ্যমে ধার নিয়ে টাকা ফেরৎ না দেওয়ায় আদালতে চেক জ¦ালিয়াতির মামলাসহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেও টাকা ফেরৎ না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন গোলাম মোস্তফা।

অভিযোগে জানা গেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মৃত মাগফেরাত আলী তালুকদারের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক একই গ্রামের মৃত রফিক উদ্দিন তালুকদারের ছেলে জাহিদুর রহমান উজ্জ¦ল পরস্পর নিকটাত্মীয়। জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল তার ব্যবসায়ী প্রয়োজনে গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তিন মাসের মধ্যে ফেরৎ দেওয়ার মৌখিক শর্তে তার ফারমার্স ব্যাংক লি. জামালপুর শাখার হিসাবের অনুকূলে একটি চেকের মাধ্যমে ৭ লাখ টাকা ধার চান গোলাম মোস্তফার কাছে। একই দিন গোলাম মোস্তফা তার জনতা ব্যাংক জামালপুর শাখার হিসাবে চাকরি জীবনের গচ্ছিত ৭ লাখ টাকা তুলে জাহিদুর রহমান উজ্জ্বলকে দেন। ফারমার্স ব্যাংকের জামালপুর শাখা থেকে চেকের মাধ্যমে টাকাগুলো উঠিয়ে নেয়ার জন্য ৭ লাখ টাকা উল্লেখ করে গোলাম মোস্তফাকে একটি চেক দেন জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল।

তিন মাস পর ফারমার্স ব্যাংকে টাকা তোলার জন্য চেকটি জমা দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জাহিদুর রহমান উজ্জ্বলের হিসাবে কোনো টাকা নেই বলে নিশ্চিত করেন। ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী চেকটি ডিজঅনার হলে গোলাম মোস্তফা খুবই বিপদে পড়েন। টাকা চাইতে গেলে জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল তার কাছ থেকে টাকা ধার নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। একাধিকবার চেয়েও টাকা না পেয়ে তিনি গত বছরের ২৪ জুন জাহিদুর রহমান উজ্জ্বলকে বিবাদী করে জামালপুর আদালতে চেক জ¦ালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করায় তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হলে গত ২৮ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করে টাকাগুলো উদ্ধারের আবেদন জানান। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে মাদারগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান।

বিজিবির চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ব্যাংকে গচ্ছিত ৭ লাখ ধার দিয়ে ফেরৎ না পেয়ে বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন গোলাম মোস্তফা।

তিনি গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘আমি সরল বিশ^াসে জাহিদুর রহমান উজ্জ্বলকে ৭ লাখ টাকা ধার দিয়ে খুবই বিপদে আছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য মির্জা আজম এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদকে বিষয়টি অবহিত এবং আদালতে মামলা দায়ের করায় জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল আমাকে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। আমার টাকাগুলো ফেরৎ পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তপেক্ষপ কামনা করছি।’

চেকের মাধ্যমে ৭ লাখ টাকা ধার নেয়ার কথা স্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য গোলাম মোস্তফা আমার চাচাত ভাই। তার সাথে আমার জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্য মির্জা আজম জমির বিরোধ মীমাংসা করে দিয়েছেন। আমি তাকে কোনো হুমকি দেই নি। আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি তুলে নিলে তার ৭ লাখ টাকা ফেরৎ দিয়ে দিবো বলে কথা দিয়েছি।