২০, আগস্ট, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১ মুহররম ১৪৪২

কলাপাড়ায় আওয়ামীলীগের প্রবীন নেতা রনধীর দত্ত সম্মাননা পেয়ে খুশিতে অঝোড়ে কাঁদলেন

আপডেট: জুন ২৬, ২০১৯

  • Facebook Share
কলাপাড়ায় আওয়ামীলীগের প্রবীন নেতা রনধীর দত্ত সম্মাননা পেয়ে খুশিতে অঝোড়ে কাঁদলেন

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি ঃ কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের দুর্দিনের কান্ডারি রনধীর দত্ত বয়স ৮০ বছর। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় তার ভূমিকা ছিল অপরীসিম। ৭১-এ তিনি সব সময় মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ খবর রাখতেন এবং বিভিন্ন রকমের সহযোগীতা করতেন। কিন্তু আজ তিনি অবহেলিত। বর্তমানে তিনি বার্ধক্য রোগে ভুগছেন। তবে রবিবার আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনে কলাপাড়া উপজেলা আ.লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রচার সম্পাদক থাকায় তাকে ক্রেষ্ট দিয়ে সম্মাননা জানান উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। সম্মাননার ক্রেষ্ট হাতে পেয়ে খুশিতে কেদেঁ দেন রনধীর দত্ত।

পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধু নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রত্যেক গ্রামে প্রত্যেক মহল্লায় সংগ্রাম কমিটি করার। তৎকালীন কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ছিলেন ডা.কাসেম ও সাধারন সম্পাদক ছিলেন ইসমাইল তালুকদার। তাদের নিয়ে এই প্রবীন নেতা গঠন করে ছিলেন সংগ্রাম কমিটি। ৮০’র দশকে কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন। এর পর ৯০ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা আ.লীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য। আজীবন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেকে আওয়ামীলীগের কর্মী বলে গর্ববোধ করেন তিনি। সে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। এর পর কলাপাড়ার স্থানীয় আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পরেন।

স্থানীয় কয়েকজন প্রবীন নেতা জানান, ৭৫ পরবর্তি সময়ে আওয়ামীলীগের কোন অফিস ছিলনা কলাপাড়ায়। সুতাপট্রির রনধীর দত্তের দোকানই ছিল আওয়ামীলীগের মিনি অফিস। তখন রনধীর দত্তের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন ডা.কাসেম, সৈয়দ আবুল হাসেম মীর, ইসমাইল তালুকদার, আনোয়ার উল ইসলাম, ননী সেন, রব মিয়া, হাবলু বিশ্বাস, নাজিম মিরা, মাহাতাব মৃধা, খালেক মিরা, মোতালেব খলিফা, জামাল বেপারীসহ আরো অনেক নেতা। তৎকালীন সময় তারা সবাই তাকে বানিয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি। দলের সমস্ত সভা-সমাবেশের সিদ্ধান্ত হত তার দোকান থেকেই। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অনেক বার তাকে লাঞ্চিতসহ মারধরের স্বীকার হতে হয়েছে। আজ তাকে সম্মাননা জানিয়েছে আওয়ামীলীগ।

রনধীর দত্তের পিতার নাম গঙ্গা সাগর দত্ত। বর্তমানে এক ছেলে, তিন মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তার বসবাস। ছেলে মেয়েদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুললেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি চাকুরী। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো আওয়ামীলীগ টানা দশ বছর ক্ষমতায় থাকলেও কোন নেতা খবর নেইনি এই প্রবীন নেতার। তবে তাকে সম্মাননা তুলে দেয়ার সময় কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তখন তিনি বলেন, শেষ বয়সে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই দাবি তিনি যেন মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধা সনদ পান।

প্রবীন এই আওয়ামীলীগ নেতা রনধীর দত্ত’র ছেলে দেবরাজ দত্ত জানান, আমার বাবার রাজনীতির শেষ বয়সে উপজেলা আ.লীগ আজ যে সম্মান দিয়েছে এতেই আমরা খুশি।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম রাকিবুল আহসান জানান, রন দা অত্যন্ত ভাল মনের মানুষ। সে প্রতিষ্ঠাকালীন আওয়ামীলীগের দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক ছিলেন। আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে তার হতে সম্মাননা দিয়ে কিছুটা হলেও তার প্রাপ্য মর্যাদা দিয়েছে। তিনি আরো জানান, এভাবেই প্রতিবছর দলের প্রবীন ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়িত করা হবে।