আপডেট: মার্চ ২২, ২০১৯

আপডেট:

শাহ জাহান, কুবি প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসন সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রায় দু’হাজার ছাত্রীর বিপরীতে একটি আবাসিক হলের কারণে এ সংকট দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে সংকট নিরসনের জন্য নতুন ছাত্রীহলের কাজ শুরু হলেও নির্মাণকাজ চলছে ধীর গতিতে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে নির্মাণ কাজ ধীর গতিতে চলছে। আর তাই তাদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছেন। এর মধ্যে প্রায় দু’হাজার ছাত্রী। ছাত্রদের জন্য তিনটি আবাসিক হল থাকলেও ছাত্রীদের জন্য আবাসিক হল রয়েছে মাত্র একটি। একমাত্র আবাসিক হল নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে প্রশাসন থেকে ৩০৩ টি সিট থাকার কথা বলা হলেও অধিকাংশ সিটে দুইজন থাকার মাধ্যমে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে। আবাসিক হলের কয়েকটি রুম বাদে প্রায় সবগুলো রুমে শিক্ষার্থীদের চারটি সিটে ছয়জন করে থাকতে হয়। এক্ষেত্রে জুনিয়র শিক্ষার্থীরা দুই সিটে চারজন ও বাকি দুই সিটে দুইজন সিনিয়র শিক্ষার্থী থাকেন।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এত কষ্ট করে থাকার পরও প্রশাসন নতুন হল নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে পারছে না।
হলে আসন সংকটের বিষয়ে নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের প্রাধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান বলেন, হলে আবাসিক সংকট খুব বেশি। বর্তমানে হলে সিটের জন্য প্রায় ২৫০ টি আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু আমাদের হলে সিট ফাঁকা রয়েছে মাত্র ২৭টি। সিট ফাঁকা না থাকার কারণে আমরা ইচ্ছে করলেও সবাইকে হলে সিট দিতে পারছি না।
অপরদিকে অধিকাংশ ছাত্রীর আবাসিক ব্যবস্থা না থাকার কারণে তাদেরকে মেস ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়। যেখানে নিরাপত্তা সংকট ও বাড়তি ভাড়াসহ নানা সমস্যায় ভুগতে হয় শিক্ষার্থীদের। হল সিট না পাওয়া অন্তত ১০ জন ছাত্রীে সাথে কথা বললে তারা জানান, হলে সিটের জন্য আবেদন করেছি অনেকদিন। কিন্তু সিট খালি না থাকায় উঠতে পারছিনা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের আবাসিক সংকটের বিষয়টা চিন্তা করে নতুন হলের কাজ শুরু করলেও সে কাজ চলছে ধীর গতিতে। প্রশাসন এ বিষয়টার দিকে ভাল করে নজর না দিয়ে উদাসীন থাকায় কাজ ধীরে চলছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে মেসে থাকা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজা মিম বলেন, হলে সিট না পাওয়ার কারণে মেসে থাকতে হয়। এখানে নিরাপত্তা কম থাকার পাশাপাশি আমাদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
এদিকে ছাত্রীদের আবাসন সংকটের কথা বিবেচনা করে ২০১৭ সালের মে মাসে ‘শেখ হাসিনা হল’ নামে নতুন একটি ছাত্রী হলের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজ শুরুর দু’বছরে নির্মাণকাজের তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। দুই বছরে নির্মিত ভবনে মাত্র দুইতলা পর্যন্ত কাজ করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাত্রী হলের কাজ পাওয়া ঠিকাদার একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি ভবনের নির্মাণকাজের সাথে জড়িত। একসাথে দুইটা ভবনের কাজ করতে যেয়ে কোনটাই দ্রুত শেষ করতে পারছে না। এবিষয়ে ঠিকাদার জাহাঙ্গীর বলেন, আমরা তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করার চেষ্টা করতেছি। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।
নির্মিত আবাসিক হলের কাজ দ্রুত শেষ করা ও ছাত্রীদের আবাসিক সংকট নিরসনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসন থেকে বারবার চাপ দেয়া হচ্ছে। তারা জনবল সংকটসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কাজ ধীর গতিতে করছে। নির্মিত হলটির কাজ শেষ হলে ছাত্রীদের আবাসন সংকট অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।