আপডেট: জুলাই ১, ২০১৯

আপডেট:

সাহাব উদ্দিন (বিশেষ প্রতিনিধি) চট্টগ্রাম:নগরীর আকবর শাহ থানার বিশ্ব কলোনী এলাকায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মহসিন নামের এক যুবক আহত হয়েছে। রোববার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর রাতে আহত মহসিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
তবে আকবর শাহ থানার ওসি জসিম উদ্দিন মহসিনের মৃত্যুর খবর স্রেফ গুজব বলে নিশ্চত করেছেন। তিনি জানান, অভ্যন্তরিন কোন্দলের কারনে বিকেলে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারিতে মহসিন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যে কোন ধরনের পরিস্থিতির জন্য এলাকায় আমাদের ফোর্সের টহল দল রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ৯নং পাহাড়তলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন ও আওয়ামী লীগ নেতা সরোয়ার মোর্শেদ কচির অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই দুটি গ্রুপের মধ্যে শনিবার (২৯ জুন) রাত থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। সেই থেকে এ পর্যন্ত তিন দফা হামলা পাল্টা হামলার ঘটনায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছে।
এদিকে গত ২৯ শে জুন রাত ১১ টায় বিশ্ব কলোনী আল হেরা জামে মসজিদের পাশে স্থানীয় যুবলীগ নেতা বেলাল উদ্দিনের জুয়েলের ওপর ৩০-৩৫ জনের একদল যুবক সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় জুয়েল আত্মরক্ষার্থে পাশের একটি দোকানে ঢুকে গেলে সন্ত্রাসীরা সেই দোকানে ঢুকে জুয়েলকে আক্রমন করলে গুরুতর আহত হয়। ৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মোঃ আবদুল ওয়াজেদ খান রাজীবের প্রত্যক্ষ নির্দেশে স্থানীয় মামুন, মাসুম, ঝিলের খোকনসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা তার ওপর এই হামলা চালায় বলে জুয়েল সিপ্লাসকে জানিয়েছেন। এসময় তার বাসার সামনে রাখা মোটর সাইকেল সহ বাসার আসবাব পত্র ভাংচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মোঃ আবদুল ওয়াজেদ খান রাজীব স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সরোয়ার মোর্শেদ কচির অনুসারী হিসেবে পরিচিত৷
অন্যদিকে বেলাল উদ্দিন জুয়েলের ওপর হামলার জের ধরে রোববার (৩০ জুন) বিকেলে আওয়ামী লীগ নেতা সরোয়ার মোর্শেদ কচির অনুসারী ও একাধিক মামলার আসামী মহসিনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবী করে হামলার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় বিশ্ব কলোনী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে আওয়ামী লীগ নেতা সরোয়ার মোর্শেদ কচির অনুসারীরা। সেই মিছিল থেকে বিশ্ব কলোনীর এম ব্লক এলাকায় কাউন্সিলর জসিমের আরেক অনুসারী শরীফের ঘরে হামলা হয়।
এই উত্তেজনা কর পরিস্থিতি চলাকালিন আহত মহসিন মারা গেছে এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ নেতা সরোয়ার মোর্শেদ কচির অনুসারীরা আরও বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। তবে, এ ঘটনায় এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় পলিশের টহল জোরদার করার পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।