আপডেট: জুলাই ২১, ২০১৯

আপডেট:

জাকিরুল ইসলাম, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর ও হাকিমপুর উপজেলার মাঝখানে চৌঘুরিয়া ঘাটে যমুনা শাখা নদীর ওপরে একটি সেতুর অভাব অনেক দিনের। এই দুই উপজেলার ১০ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিরামপুর উপজেলার চৌঘুরিয়া গ্রামের সঙ্গে যমুনা শাখা নদীর ওপর দিয়ে হাকিমপুর উপজেলার নয়ানগর গ্রামের দূরত্ব মাত্র ৫০০ মিটার। কিন্তু এ নদীতে কোনো পাকা সেতু না থাকায় চৌঘুরিয়া, রণগাঁও ও দামোদরপুর গ্রামের মানুষকে কাটলাবাজার ও খট্টামাধবপাড়া গ্রাম হয়ে নয়ানগর যেতে সড়কপথে প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে আসতে হয়। চৌঘুরিয়া ঘাটে যমুনার শাখা নদীর ওপর একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে দূরত্ব কমে যাবে। এতে করে দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। চৌঘুরিয়া ঘাট দিয়ে নদীপথে প্রতিদিন স্কুল শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ শত শত মানুষ চলাচল করে। দামোদরপুর ও চৌঘুরিয়া গ্রামের অনেক ছেলেমেয়ে নদী পার হয়ে হাকিমপুর উপজেলার নয়ানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে ঘাটে সময় মতো নৌকা না পাওয়া, নিয়মিত মাঝি না থাকা ও শুকনা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো নড়বড়ে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার ভয়ে বিদ্যালয়ে যেতে চায় না।
নয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া খাতুন সময়ের কন্ঠকে বলেন, বিদ্যালয়ে যেতে প্রতিদিন নৌকায় করে আমাকে এই নদী পার হতে হয়। বর্ষাকালে নদী পার হওয়ার সময় নদীর মাঝখানে গেলে প্রচন্ড ভয় লাগে। এখানে একটি সেতু হলে আমার মতো সব ছাত্রছাত্রীর খুব উপকার হবে।
ঘাটের ইজারাদার শুকনা মৌসুমে বছরে একবার করে ওই নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে থাকে যা জনসাধারণের অতিরিক্ত চাপে কিছুদিনের মধ্যেই ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে রিকশা-ভ্যান বা পণ্যবাহী যান চলাচল করতে পারে না। এ ছাড়াও বিরামপুর উপজেলার চৌঘুরিয়া, দামোদরপুর, রামচন্দ্রপুর, রণগাঁ, দাউদপুর গ্রামের পান চাষিরা পান বাজারজাত করতে পানের বড় চালান নিয়ে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পানের বাজার হাকিমপুর উপজেলার হিলিহাটে যায়। আর তাদের হাটে যেতে হলে ৫০০মিটার রাস্তার বদলে ৭ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যেতে হয়। অন্যদিকে, হাকিমপুর উপজেলার নয়ানগর, খট্টামাধবপাড়া, মংলা ও ঘাসুড়িয়া গ্রামের মানুষকে ঠিক ওই পথ ঘুরে আসতে হয়। এতে করে তাদের সময় ও অর্থ বেশি ব্যয় হয়।
চৌঘুরিয়া গ্রামের পানচাষি সুলতান মাহমুদ আক্ষেপের সুরে বলেন, উপজেলা থেকে ইঞ্জিনিয়ার এসে কয়েকবার মাপজোখ করে গেছেন। তারা বলে গেছেন নদীতে সেতু হবে। কিন্তু সেই সেতু এখনও হয়নি। যখন মাপজোখ হয় তখন এলাকার মানুষের আশা জাগে, এবার হয়তো সেতু হবে। কিন্তু সেতু আর হয় না।
সাবেক ইউপি সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন দিলু সময়ের কন্ঠকে বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন একটি সেতুর। আগের বছরগুলোতে এ আসনের সংসদ সদস্যরা এ নদীতে পাকা সেতু তৈরি করে দিবেন বলে এলাকার মানুষকে প্রতিশ্রতি দিয়ে সেই যে চলে গেছেন, সেতুর সুখবর নিয়ে আর কেউ ফিরে আসেননি!
রণগাঁ গ্রামের বৃদ্ধা সামছুন্না জানান, হামার ছাওয়া (এমপি) শিবলী নতুন স্কুল, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেছে এবার হামার অনেক দিনের আশা সেতুটাও করে দিবি শিবলী।
এবিষয়ে এমপি শিবলী সাদিক সময়ের কন্ঠকে বলেন, এলাকাবাসীর সুবিধার্থে এখানে একটি সেতুর প্রয়োজন, তবে দ্রুত সেতুটি করবার জন্য আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।