১৮, আগস্ট, ২০২০, মঙ্গলবার | | ২৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার অভাবে রুগীর মৃত্যু

আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০২০

  • Facebook Share
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার অভাবে রুগীর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার, কয়রা, পাইকগাছা: খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারের অবহেলায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে আহত রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১০ডিসেম্বর ) সকাল ১০ টায় হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের উপজেলার ডাঃ হেলালির হ্যাচারীতে ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারের সাথে আমাদি গ্রামের নিরঞ্জন সরকারের পুত্র মনি শংকর সরকার(৪০) স্পৃষ্ট হলে আহত অবস্থায় তার পরিবারের সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। জরুরী বিভাগে নেয়ার দায়িত্বে থাকা কোন ডাক্তার না থাকায় তার চিকিৎসা ব্যহত হয়।
নিহত মনি শংকরের স্ত্রী মিনতি সরকার বলেন, আমার স্বামীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরী বিভাগে কোন ডাক্তারের দেখা মেলেনি। আমি হাসপাতালে উপস্থিত সকল নার্স সহ সকল কর্মকর্তাকে পায়ে ধরি কিন্তু কেউ আমার স্বামীর পাশে আসে নাই।
নিহতের চাচাতো ভাই ভবতোষ সরকার এই প্রতিবেদককে বলেন আমার ভাই কথা বলতে বলতে আমাদের সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কিন্তু আমরা কিছুই করিতে পারলাম না।হাসপাতালে ভাইকে নিয়ে আসার পর জরুরী বিভাগে কোন ডাক্তার না থাকায় ডাক্তারের বাসায় যায়।ডাক্তার আমাদের কথা শুনে বলেন এটা আমাদের কাজ না স্যারের সাথে কথা বলেন।
এ অবস্থায় সকাল ১০ টায় মনি শংকরের মৃত্যু ঘটে। এ ব্যাপারে মৃত্যু মনি শংকরের ছেলে কনক সরকার বলেন, আশংকা জনক অবস্থায় বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। আসার পর জরুরী বিভাগে কোন ডাক্তার ছিলনা। প্রায় ৪৫ মিনিট পর একজন ডাক্তার আসেন। তিনি কিছু না বলে বাবা দেখে চলে যান। খুলনা জেলার সিভিল সার্জন হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে উপস্থিত থাকা অবস্থায় জরুরি বিভাগে কোন ডাক্তার নেই এমন অবস্থা কোন ভাবে মেনে নিতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, ডাক্তারের অবহেলাই তার মৃত্যুর কারন। এছাড়া হাসপাতালে কর্মরত সকল কর্মচারী বিনা টাকায় কোন কাজ করে না। অসহায় রোগী পরিবার তাদের কাছে জিম্মি। এহেন অবহেলায় আমার বাবার মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারীতার মাধ্যমে সুষ্টু বিচারের দাবি জানান তিনি।
কর্তব্যরত ডাক্তার প্রজ্ঞা লাবনী বলেন, রোগী হাসপাতালে আসার পূর্বে মারা জান।
এদিকে মৃত্যুর খবর শুনে মুহূর্তেই হাসপাতালে মৃত মনি শংকরের পরিবার-পরিজন ও আশ পাশের লোকজন হাসপাতালে ভিড় জমান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়রা থানা পুলিশ ছুটে আসেন। এসময় ওসি মোঃ রবিউল হোসেনের সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষুদ্ধ জনতাকে সান্তনা দিয়ে ঘটনা নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম হন। লেখা পর্যন্ত কয়রা থানায় অপমিত্যুর কোন মামলা হয় নাই।