১৯, আগস্ট, ২০২০, বুধবার | | ২৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মুজিব বর্ষ ক্ষণগণনায় অবহেলার অভিযোগ

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২০

  • Facebook Share
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মুজিব বর্ষ ক্ষণগণনায় অবহেলার অভিযোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীর উৎসব বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপনের লক্ষে শনিবার দেশজুড়ে উপজেলা  পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্ষণগণনা অনুষ্ঠান। তবে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের রাতের মূল আয়োজনে মানুষের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। 
শনিবার রাতে দৌলতপুর উপজেলা চত্ত্বরে কোর্টবিল্ডিংয়ের সামনের মাঠে অনুষ্ঠানের প্যান্ডেলে গিয়ে দেখা গেছে জনশূন্য অবস্থা। এমনকি দেখা মেলেনি আয়োজকদের কারো। এই প্যান্ডেলে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত জমকাল অনুষ্ঠান প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। 
এ সময় প্যান্ডেলের ডান পাশে শুধুমাত্র সামনের সারিতে জনাকয়েক ব্যক্তিকে বসে থাকতে দেখা যায়। আর ভাজাপোড়া বিক্রির কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান ছাড়া কোনো মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। সবগুলো চেয়ার ফাঁকা, রাতের শুনশান নীরবতায় অনুষ্ঠানস্থলে একরকম ভূতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছিল। 
উপজেলা প্রশাসনের উদাসীন মনোভাব ও দায়সারা প্রচারণার কারণে এখানকার আয়োজনে লোকসমাগমে এ ধরনের নাজুক অবস্থা বলে স্থানীয় অনেকে মন্তব্য করেন। 
তবে এ প্যান্ডেল থেকে বেরিয়ে আসার পরপরই সেই নীরবতা কাটিয়ে সরকারি কর্মসূচি মোতাবেক উপজেলা পরিষদের সামনে আরেক মাঠ থেকে বর্ণিল আতশবাজির ঝলকানিতে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। চোখ ধাঁধানো আতশবাজি দেখতে ওই মাঠটিতে হাতে গোণা কিছুসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ঘটে। এর আগে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে বসানো ক্ষণগণনার ডিজিটাল ঘড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনার এ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রধান সমন্বয়কারী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইওএনও) শারমিন আক্তার আতশবাজির মাঠে ব্যস্ত ছিলেন। এ কারণে কোর্টবিল্ডিংয়ের সামনের প্যান্ডেলে তাকে পাওয়া যায়নি। 
আয়োজকদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের অন্য কোনো কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত থাকার দরকার ছিল বলে অনেকে মনে করছেন। ‘আয়োজকরাই যেখানে অনুপস্থিত, সেখানে সাধারণ পাবলিক থাকে কী করে’ এমন মন্তব্যও করেন স্থানীয় লোকজন। 
এ ছাড়া ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানের দিনের প্রথমভাগের আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনী নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইওএনও) শারমিন আক্তার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর আলী, দৌলতপুর থানার ওসি এসএম আরিফুর রহমানসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেক ভিডিওতে দেখা যায় বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতায় অল্প সংখ্যক মানুষের  উপস্থিতি তে শ্লোগান দিচ্ছেন উপজেলা যুবলীগ নেতা আব্দুল কাদের, যেখানে দলীয় শীর্ষ নেতার সংখ্যাই বেশি দেখা যায়। শ্লোগানে দোহার দিচ্ছিলেন স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
কর্মসূচী ও কার্যক্রম সম্পর্কে স্থানীয় সাংবাদিকদের অধিকাংশ অবহিত না থাকায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন নিয়ে গণমাধ্যম কাভারেজ পর্যাপ্ত দেয়া সম্ভব হয়নি বলে জানায় সাংবাদিক মহল।
প্রকাশিত খবরের প্রেক্ষিতে দৌলতপুর  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের সাথে কথা বললে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শীত কে দায়ী করেন। 
তবে, স্থানীয়দের মধ্যে দু’দিনের এই আয়োজন নিয়ে অসন্তোষ স্পষ্ট ভাবে লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে ১৬ ডিসেম্বরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মাঠ ভরা দর্শক এবং স্থানীয় এমপি সরওয়ার জাহান বাদশাহ উপস্থিত থাকলেও ভালো মানের অনুষ্ঠান উপহার দিতে পারেনি প্রশাসন। এমনকি ঐদিন মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খাবার সরবরাহে ব্যাপক অব্যবস্থাপনার অভিযোগও পাওয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যাক্তি জানান সেদিন এমপি,উপজেলা চেয়ারম্যান পর্যন্ত ব্যাবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।