৫, ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

ফুলবাড়ীয়ায় ঐতিহ্যবাহী গুমগুটি খেলায় লাখো মানুষের ঢল

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

  • Facebook Share
ফুলবাড়ীয়ায় ঐতিহ্যবাহী গুমগুটি খেলায় লাখো মানুষের ঢল

মোঃ হাবিবুল্লাহ হাবিব, ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ  রবিবার পৌষের শেষ বিকেলে জমিদার আমলের তালুকÑপরগনার সীমানায় ২৬০ বছরের ঐতিহ্যবাহি গুম গুটি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলাকে ঘিরে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার লহ্মীপুর গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। হুম গুটি খেলার নেই কোন আয়োজক, নেই পুরস্কার তারপরও একই স্থানে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গুম গুটি খেলা। হাজার হাজার গুটি খেলোয়াড়ের মুখে “জিততই আবা দিয়া গুটি ধররে … হেইও” শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে আকাশ বাতাস। মুক্তাগাছা জমিদার রাজা শশীকান্তের সাথে ত্রিশাল বৈলরের হেম চন্দ্র রায় জমিদারের জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জমিদার আমলের শুরু থেকেই তালুকের প্রতি কাঠা জমির পরিমাপ ছিল ১০ শতাংশে পরগনার প্রতি কাঠা জমির পরিমাপ ছিল সাড়ে ৬ শতাংশে। একই জমিদারের ভূ-খন্ডে দুই নীতির প্রতিবাদে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। জমির পরিমাপ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ মিমাংসা কল্পে লক্ষীপুর গ্রামের বড়ইআটা নামক স্থানে যেখানে শুরু তালুকÑ পরগনার সীমানা সেখানে এ গুটি খেলার আয়োজন করা হয়। গুটি খেলার শর্ত ছিল গুটিটি যে দিকে যাবে তা হবে তালুক পরাজিত অংশের পরগনা। জমিদার আমলের সে গুটি খেলায় মুক্তাগাছা জমিদারের প্রজারা বিজয়ী হয়। আজও তালুক-পরগনার জমির পরিমাপ একইভাবে চলছে। ১ মণ ওজনের পিতলের গুটি ডাক ঢোলের তালে-তালে নেচে গেয়ে তালুক-পরগনার সীমানায় নিয়ে আসার পর গুটির উপর ‘জিততই আবা দিয়া গুটি ধররে’ এ শোগান মুখে নিয়ে এক সাথে ঝাঁপিয়ে পড়বে হাজার হাজার মানুষ। গুটি খেলায় টানা হেচড়া সবই হয় কিন্তু হয়না কোন মারামারি। হাজার হাজার মানুষ নিয়ন্ত্রনে থাকে না কোন পুলিশ বা অন্য কোন আইন শৃঙ্খলারাকারী বাহিনী। এ খেলায় আজ পর্যন্ত ঝগড়া বিবাদের কোন ঘটনা ঘটেনি। ৫/৬ বছর আগে মানুষের পায়ের তলায় পিষ্ঠ হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছিল বলে এলাকাবাসী জানান। প্রতি বছর পৌষের শেষ বিকেলের এ খেলাকে ঘিরে অতি প্রাচীনকাল থেকেই লক্ষীপুর, বড়ইআটা, ভাটিপাড়া বালাশ্বর, শুভরিয়া, কালীবাজাইল, তেলিগ্রাম, সারুটিয়া, গড়বাজাইল, বাসনা, দেওখোলা, কুকরাইল, বরুকা, আন্ধারিয়াপাড়া, দাসবাড়ী, কাতলাসেন সহ আশে পাশের ১০/১২টি গ্রামে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা পড়ে নতুন নতুন জামা কাপড়, শতাধিক গরু জবাই হয় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে। গুটি খেলা এক নজর দেখার জন্য দূরদূরান্তের আতœীয় স্বজন ভীড় করে গ্রামে। ঢাক-ঢোলের বাজনার তালে তালে গ্রামের আবাল-বৃদ্ধবণিতা নেচে ওঠে। ঐতিহ্যবাহি হুম গুটি খেলা এক নজর দেখার জন্য সকাল থেকে পার্শ্ববর্তী মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, ভালুকা উপজেলা থেকে শত শত মানুষ ভীড় করে খেলার স্থানে। তালুকÑপরগনার সীমানা লীপুর গ্রামের বড়ইআটা নতুন ব্রীজ। যেখানে ২60 বছর আগে জমিদারের প্রজারা খেলে ছিল শক্তি পরিবার এ খেলা। হাজার হাজার গুটি খেলোয়াড়ের ১ মণ ওজনের গুটি টানা হেচড়ার পর হঠাৎ করেই গুটিটি হারিয়ে যায়, এ জন্য খেলাটির নাম করণ করা হয়েছে গুম গুটি। খেলা এখানো চলছে।