৫, ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

তৃতীয় দিনের মত ঢাকায় লড়ছেন হাবিপ্রবির সেই শিক্ষার্থী

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৯

  • Facebook Share
তৃতীয় দিনের মত ঢাকায় লড়ছেন হাবিপ্রবির সেই শিক্ষার্থী

জাকিরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকাঃ দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) অচলাবস্থা নিরসন ও শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে তৃতীয় দিনের মত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন সাইফুল ইসলাম শান্তি নামে এক শিক্ষার্থী। তিনি হাবিপ্রবির মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন।

গত ১৪ নভেম্বর থেকে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, সহকারী অধ্যাপকদের লাঞ্ছিত ও নারী শিক্ষিকাদের শ্লীলতাহানির বিচার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্ট্রার ও ছাত্র উপদেষ্টার বহিষ্কার ও দুই সহকারী অধ্যাপকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন নতুন পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপকরা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামও।

গত আড়াই মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলনে থাকায় হাবিপ্রবির অধিকাংশ ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে অচল অবস্থা। অনেক শিক্ষার্থী পড়েছেন সেশনজটে।

শান্তি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, “গত আড়াই মাস থেকে পঙ্গুত্ব বরন করেছে হাজীদানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের। কেউ কথা রাখছেন না। একপক্ষ (আন্দোলন রত শিক্ষকরা) রয়েছে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে । আর আরেক পক্ষ( বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন) একের পর এক মিটিং ডেকেও সমস্যার সমাধান বের করতে পারছেন না। শুধু প্রশাসন সাধারন শিক্ষার্থীদের উপহার দিচ্ছে তারিখ আর তারিখ। অমুক তারিখ থেকে ক্লাস শুরু হবে তমুক তারিখ থেকে সংকট কেটে যাবে আরো কত কী!! মাঝখানে থেকে শিক্ষকদের যাতাকলে আমরা সাধারন শিক্ষার্থীরা মরতেছি।”

তিনি আরো বলেন,”আমরা এই অবস্থার এখন উত্তোরন চাই, আমরা ক্লাস পরীক্ষায় ফিরতে চাই, আমরা আর সেশনজটে থাকতে চাই না। আমরা কেন শিক্ষকদের এহেন আন্দোলনের দায় নিবো?? আমরা তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছি, জ্ঞান অর্জন করতে এসেছি। আমাদের কেন এখানে শিক্ষকদের অপরাজনীতির শিকার হতে হবে? আমরা তো কোন পাপ করি নাই। আমরা বাবা মায়ের হালাল টাকা খরচ করে এখানে পড়তে এসেছি। কিন্তু এখন আমরা এখানে শিক্ষার বদলে পাচ্ছি শুধুই সেশনজট আর শিক্ষকদের অপরাজনীতি।”

লিখিত বক্তব্যে শান্তি আরো বলেন,” ক্লাস পরীক্ষায় ফেরার সব চেষ্টা ব্যথ হওয়ায় আমাদের শেষ ভরসা এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। সংকট সমাধানে আমরা এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে এই কথাগুলো যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছায় তবে তিনি অবশ্যই এই সংকট সমাধানে এগিয়ে আসবেন এবং আমরা দ্রুত ক্লাস পরীক্ষায় ফিরবো বলে আশা রাখি”।