সজীব চন্দ্র সরকার (নেত্রকোনা প্রতিনিধি) : আজ ৯ ডিসেম্বর (রবিবার ) এই দিনে হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে নেত্রকোনা মুক্তি লাভ করে । প্রতি বছরের মতো এবারও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও জেলা প্রশাসন যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- রবিবার সকালে সরকারি ও বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠানে জাতীয় ও বিজয় পতাকা উত্তোলন, বিজয় মিছিল, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ দিবসটি পালনের মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার দাবি
জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।
দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে নেত্রকোনা জেলার মুক্তিযোদ্ধা সহ শত শত মানুষ পাকবাহিনীর হাতে নিহত হন। সম্ভ্রম হারান অনেক মা-বোন। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় অনেক ঘরবাড়ি। নেত্রকোনা শহরের টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজটিকে পাকবাহিনী তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে।
১৯৭১ সালের এই দিনে শহরের নাগড়াস্থ সরকারি কৃষি খামারে সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে হানাদার মুক্ত হয় নেত্রকোনা। ওইদিন উত্তোলিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। যুদ্ধে আবু খাঁ, আব্দুর রশীদ ও সাত্তার নামে তিনজন বীর মুক্তিযুদ্ধা শহীদ হন।
এছাড়াও ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই
মুক্তিযোদ্ধারা জেলার কলমাকান্দা
উপজেলার নাজিরপুরে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সেদিন শহীদ হন নেত্রকোনার ডা. আবদুল আজিজ, ফজলুল হক, জামালপুরের জামাল
উদ্দিন, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার নুরুজ্জামান, দীজেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস, ইয়ার মাহমুদ ও ভবতোষ চন্দ্র দাস।
নেত্রকোনা মুক্ত দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।