আপডেট: মে ৫, ২০২০

আপডেট:

ত্রাণের স্লিপ তালিকা তৈরি নিয়ে জামালপুর শহরের শাহাপুর এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোঠাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ২০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনা ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ক্যামেরা ভাংচুরসহ মারধরের শিকার হয়েছেন সময়টিভি ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ক্যামেরাপার্সন।
শনিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঘটেছে এ ঘটনা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো মুহূর্তে ফের সংর্ঘষের আশংকায় আতংকিত রয়েছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ত্রাণের স্লিপের তালিকা তৈরি নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও পৌর কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। বিরোধের জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দু পক্ষ সংর্ঘষে লিপ্ত হয়। সংর্ঘষে উভয়পক্ষের ১৮ জন আহত হয়েছে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহের জন্য ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করতর গেলে হেলাল কাউন্সিলরের ছেলে অন্তরেরর নেতৃত্বে সময় টিভির ক্যামেরাপার্সন আবুল কালাম আজাদ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ক্যামেরাপার্সন আল-আমীনকে মারধর করা হয়। ভাংচুর করা হয় সময়টিভির ক্যামেরা। গুরুতর আহত সময় টিভির ক্যামেরাপার্সন আবুল কালাম আজাদকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উভয়পক্ষের আহতদের মধ্যে কাউন্সিলর হেলাল পক্ষের হলেন রাজু (৪০), আলাউদ্দিন (৪৮), উদয় (৫৫), জয়নব (৬০), হাবিবুর রহমান (৭০), শোভা বেগম (৫৫), হাসি (৩৫), আমির হামজা হীরা (২৮) ও পারভীন বেগম (৪০)। মোজাম্মেল পক্ষের হলেন তোফাজ্জল হোসেন (৫০), হাবিবুর রহমান (৬৫), মনোয়ারা বেগম (৪৫), শান্ত (৩৫), দুলু (৫০), রাসেল (৪০), মোস্তফা (১৪) ও সালেহা বেগম (৫০)। আহতরা বেসরকারি বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ত্রাণের স্লিপের জন্য প্রতিজনের কাছ থেকে ১০০ টাকা আদায় করছে হেলাল কাউন্সিলর। বিষয়টি জানাজানি হলে সে ভাবে আমি ছড়িয়েছি। আমার ভাই তোফাজ্জল চা বিক্রি করে আসার পথে হেলালের ছেলে অন্তরসহ রাজু ও সৌরভ নামে ৩ ব্যক্তি মারধর করে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে আমাদের লোকজনদের মারধর করেছে তারা।
পৌর কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন বলেন, পৌর মেয়রের নির্দেশে বাড়িতে বসে ত্রাণের ৪৯০ জনের তালিকা তৈরি করছিলাম। এ সময় মোজাম্মেলের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোক স্লিপের জন্য অতর্কিত হামলা চালায়।
ক্যামেরাপার্সনদের মারধর ও ক্যামেরা ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার লোকজন নয় বরং মোজাম্মেলের লোকজনই ক্যামেরা ভাংচুর করেছে।
জামালপুর সদর থানার ওসি মো. সালেমুজ্জামান জানিয়েছেন, দু’পক্ষের সংঘর্ষ এড়াতে ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ব্যপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলার পর এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।