২৩, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ২৩ সফর ১৪৪১

আনসার বাহিনীর নাম পরিবর্তন হতে পারে বর্তমান সরকারের মেয়াদে

আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০১৯

আনসার বাহিনীর নাম পরিবর্তন হতে পারে বর্তমান সরকারের মেয়াদে

এম আর করিম: (বিশেষ প্রতিবেদক)টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ২০/০১/২০১৯ (রবিবার) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয় ও  মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার ও ভিডিপিসহ বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ, এনডিসি, পিএসসি, জি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনসার বাহিনী নামটি পরিবর্তন করার বিষয়ে আবেদন জানান। তিনি বলেন, নামটির কারণে বিদেশে বাহিনীটির নাম নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়। আনসার আল ইসলাম, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামে জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। তাঁর বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনসার বাহিনী বহু পুরনো। নামটি পরিবর্তন করতে হলে মাঠপর্যায়ের আনসার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা রাজি হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
এ বাহিনীর নাম পরিবর্তন বিষয়ে ১৬/০৬/২০১১খ্রীঃ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংসদ জনাব ইসরাফিল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন জানান আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ জন নিরাপত্তা বাহিনী’ করার একটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। কাজটি প্রক্রিয়াধীন আছে’ কিন্তু এখনও পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়নি এ বাহিনীর নাম।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী” বাংলাদেশের অন্যতম একটি সু’শৃংখল বাহিনী।আনসার বাহিনী ১৯৪৭ সালে যে উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছিল সে উদ্দেশ্য সমূহের কারন ও অকারন বিবেচনা করে স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালে পূণর্গঠিত হওয়া এ বাহিণী বর্তমান সময়ের সাথে তার নামকরণ ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিবর্তন করা দরকার মনে করছেন অনেকেই। এ বাহিনীর রয়েছে ৩৯ টি পুরুষ ব্যাটালিয়ন ও ০২ টি মহিলা ব্যাটালিয়ন। পুরুষ ব্যাটালিয়ন আনসাররা পার্বত্য অঞ্চলে সেনাবাহিনীর সাথে Counter Insurgency অপারেশনে কাধেকাধ মিলিয়ে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সমতল এলাকায় স্বতন্ত্র নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন, মোবাইল কোর্ট এর ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন, পুলিশ, বিজিবির সাথে দায়িত্ব পালন ছাড়াও সরকার নির্দেশিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তামূলক দায়িত্ব পালন করছেন। এ দেশের বিভিন্ন দাঙ্গা ও হরতালে থাকে ব্যাটালিয়ন আনসারদের বিশেষ ভুমিকা।
মুক্তিযুদ্ধে এ বাহিনীর রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। ১৯৭১ সালে এ বাহিনীর ৪০ হাজার রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধা তৈরির প্রশিক্ষণ ও মুক্তিযূদ্ধ করার সময়। তখনকার অস্থয়ী সরকারকে মুজিব নগরে এ বাহিনীর ১০ জন সদস্য গার্ড অব অনার প্রদান করেছিলেন।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ফেব্রুয়ারী মাসে (১২/০২/২০১৯ সম্ভাব্য) আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।